চা বাগানেও সন্ধ্যা নামে – ভৌতিক রহস্য গল্প – তৌফিক মিথুন (পর্ব ২)

Spread the love

চা বাগানেও সন্ধ্যা নামে – ভৌতিক রহস্য গল্প – তৌফিক মিথুন (পর্ব ২)

🌿 তৌফিক মিথুন
শব্দ শুনে সাথে সাথেই টং ঘর থেকে বেড়িয়ে এলো চৌকিদার।
বাগানটা তেমন বড় না। এদিক ওদিক টর্চের আলো ফেলতেই সে দেখলো, একটা মেয়ে রাতের অন্ধকারে চা পাতা তুলছে। চৌকিদার ভাবলো আশেপাশের কোন মেয়ে মনে হয় চুরি করার মতলবে, রাতের অন্ধকারে চা পাতা তুলছে।
কয়েকবার চিৎকার করে ডাকাডাকি করার পরেও মেয়েটার কোন ভ্রূক্ষেপ নেই। শেষে বিরক্ত হয়ে সে এগিয়ে গেলো মেয়েটার কাছে। ভুলে গেল তাকে দেওয়া নির্দেশ। গেইটের তালা খুলে ঢুকে গেল সেই বাগানে।
কাছাকাছি গিয়ে ধমক দিয়ে বললো, “এই মেয়ে, এত রাতে এইখানে কি ?”
মেয়েটা চোখ মুখ শক্ত করে দাঁড়িয়ে গেল। কন্ঠে উঠে এল বিরক্তি। পাতা তোলা বন্ধ করে অদ্ভুত কন্ঠে চৌকিদারের দিকে না ফিরেই বললো, ‘এটা আমার চা বাগান। এখানে যা খুশি, তাই করবো আমি। তুই চলে যা।’
তুই করে বলায়, চৌকিদারের পুরুষত্বে আঘাত লাগলো মনে হয়।
সে মেয়েটার হাত ধরে টান দিয়ে বললো, “রাতের বেলায় বাগানে চুরি করা বের করতেছি। চল আমার সাথে। সকাল হলেই বাবুরা তোর বিচার করবে।’
হ্যাচকা টানে এবারে মেয়েটা ফিরলো চৌকিদারের দিকে।
অদ্ভুত ব্যাপার। অবাক হয়ে চৌকিদার লক্ষ্য করতে লাগলো, মেয়েটার চেহারা বদলাতে শুরু করেছে। কিশোরী একটা মেয়ে থেকে চোখের পলকেই সে একটা বৃদ্ধাতে পরিনত হলো। যে বৃদ্ধার একটা চোখ সাদা। ঐ চোখের মনি নেই। গালে বসন্তের দাগ। সারা মুখে অসংখ্য বলি রেখা। মুখ থেকে ক্রমাগত লালা ঝরছে। ঠিক যেন র‌্যাবিস রোগে ভোগা একটা কুকুর। কামড়ে দিলেই হয়ে যাবে জলাতঙ্ক রোগ।
চৌকিদার ঐ দৃশ্য সহ্য করতে না পেরে, ঐ অবস্থাতেই জ্ঞান হারায়। এরপর তার আর কিছুই মনে নেই।
সকালে তাকে বাগানেই পাওয়া গিয়েছিলো, গলার কাছে কুকুরের কামড়ের মতো একটা কামড়ের দাগ। অনেকেই কুকুরের কামড় বলে চালানোর চেষ্টা করেছিলো। কিন্তু কুকুর সাধারনত গলায় কামড়ায় না। তাছাড়া দাগটার সাথে কুকুরে কামড়ানোর কোথায় যেন একটা পার্থক্য আছে।
কয়েকদিন হাসপাতালে প্রচন্ড কষ্ট ভোগ করে, চৌকিদারটা মারা যায়। তবে মৃত্যুর আগে জানিয়ে যায় সেই রাতের বীভৎস অভিজ্ঞতার কথা।
বিরক্ত না হলে, এবারে কাছাকাছি অন্য এক চা বাগানের গল্প বলি।
আমার সাথে চা বাগানে ঘুরতে গিয়েছিলো, চাচাতো ভাই নিশু। ওর সাথে ঘটা একটা ঘটনা আজ বলা যেতে পারে।
সেদিন ছিলো আমাদের চা বাগান ভ্রমণের চতুর্থ দিন। আমার শরীরটা খুব একটা ভালো লাগছিলো না। পাহাড়ি কাঁচা গাবের ভর্তা খেয়ে ফুড পয়জনিং টাইপের কেলেঙ্কারি অবস্থা। টয়লেটে যাই আর আসি। তাই আমি মামার বাংলোতেই ছিলাম সারাদিন।
নিশু গিয়েছিলো সিলেট মূল শহরে ঘুরতে। ওখানে তাঁর কিছু বন্ধু বান্ধব এসেছিলো শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ওখান থেকেই আড্ডা দিয়ে ফিরছিলো সে। রাতের বেলা একা চা বাগানের ভিতর দিয়ে আসছিলো।
রাত তখন কত হবে? নয়টা থেকে দশটা। শহরের ছেলেদের, এই সময়কে রাত বলতে বড্ড আপত্তি।
তারাতারি হবে ভেবে বাগানের ভেতর দিয়ে শর্টকাটে এগিয়ে আসছিলো সে। যদিও সবাই তাকে মানা করেছিল, রাতের বেলায় একা বাগানে না ঢুকতে। কিন্তু কে শোনে কার কথা?
(চলবে)

     More News Of This Category

ফেসবুক