পরীমনিকে ধর্ষন ও হত্যাচেষ্টা মামলায় মদক সহ নাসির উদ্দীন মাহমুদ গ্রেফতার ।

Spread the love

উত্তরা প্রতিনিধিঃ অভিনেত্রী পরীমনির দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার নাসির উদ্দীন মাহমুদ বিত্ত বৈভবের পাশাপাশি একাধীক নারী সঙ্গীকে নিয়ে আমোদ-প্রমোদ এবং ইয়াবা ও মদের নেশায় বিলাসী জীবন-যাপন করতেন।

পরীমনির পরিপ্রেক্ষিতে উত্তরায় অমির বাসায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও অমিকে গ্রেফতারে বেরিয়ে এসেছে এসব তথ্য। এসময় নাসীরের তিন নারী সঙ্গীকেও গ্রেফতার করে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। অভিযানে অমির বাসায় তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় এক হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও বেশ কয়েক বোতল বিদেশি মদ ও বিয়ার।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানায়, অমির বাসায় অভিযান পরিচালনার সময় সেখানে অবস্থানরত তিন নারীর দেখানো জায়গা থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিদেশি মদ-বিয়ার ও এক হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। ফলে ওই বাসায় নাসির ও অমির তিন নার সঙ্গীকে মাদকদ্রব্য রাখার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে মাদক মামলায় পাঁচ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার মামলায় নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও অমিকে সাভার থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হবে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার ঘটনার পর রাজধানীর উত্তরা ১ নম্বর সেক্টরে ১২ নম্বর রোডের ১৩ নম্বর বাড়িতে (অমির বাসা) দুই নারী লিপি আক্তার (১৮), সুমি আক্তারকে (১৯) সঙ্গে নিয়ে আত্মগোপনের চেষ্টা করেছিলেন ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ।সেখানে অমির সঙ্গে তার বর্তমান গার্লফ্রেন্ড নাজমা আমিন স্নিগ্ধা (২৪) অবস্থান করছিলেন। সাভারের ঢাকা বোর্ট ক্লাবে অপ্রীতিকর একটি ঘটনা ঘটানোর পরও অভিযুক্ত নাসির উদ্দিন তার অপকর্মের সহযোগী অমির বাসায় অবস্থান নিয়ে গত তিনদিন ধরে আমোদ-বিনোদন অব্যাহত রেখেছিলেন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা (ডিবি) বিভাগের (উত্তরা) যুগ্ম-কমিশনার মো. হারুন-অর-রশীদ বলেন, ব্যবসায়ী নাসিরের বিরুদ্ধে আগেও মাদক ও নারী নির্যাতনের মামলা হয়েছে। তিনি উত্তরা ক্লাবের নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন। কিন্তু নাসিরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগে থাকায় তাকে ওই ক্লাব থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল বলে তথ্য রয়েছে।

তিনি বলেন, এছাড়াও নাসির বিনোদনের জন্য অর্থের বিনিময়ে নারী সঙ্গী রাখতেন। নাসিরের বিরুদ্ধে কেউ যদি অভিযোগ করে তবে আমরা সেগুলোর তদন্ত করবো।

নাসির উদ্দীন মাহমুদ এর বিবরন :-

অভিনেত্রী পরীমণিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলার প্রধান আসামি ও ঢাকা বোট ক্লাবের সদস্য নাসির উদ্দিন মাহমুদ প্রায় চার দশক ডেভেলপার ব্যবসায় যুক্ত রয়েছেন।

দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, নাসির উদ্দিন কুঞ্জ ডেভেলপার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যানের পদেও আছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সয়েল, ওয়াটার অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট বিভাগ থেকে পড়াশোনা করেন। নাসির ও তার প্রতিষ্ঠান সরকারের গণপূর্ত অধিদফতর, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি), শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর (ইইডি), রাজউক, রেলওয়েসহ সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদারি কাজ করেন।

নাসির উদ্দিন মাহমুদ বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কনস্ট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রির (বিএসিআই) সাবেক নির্বাহী পরিষদের সদস্য। তিনি ২০১৫, ২০১৬ এবং ২০১৭ সালের উত্তরা ক্লাবের নির্বাচিত সভাপতি এবং লায়ন ক্লাবের ঢাকা জোনের চেয়ারম্যান ছিলেন। এছাড়াও নাসির জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রেসিডিয়াম সদস্য। ২০২০ সালের ২৮ ডিসেম্বর জাপার নবম কাউন্সিলে তিনি দলটির এই পদ পান।

     More News Of This Category

ফেসবুক