রূপসায় সহপাঠীরা পেলেও উপ-বৃত্তির টাকা পেল না অনেক শিক্ষার্থী,

Spread the love

রূপসা প্রতিনিধিঃ রূপসা উপজেলায় মোট ৬৮ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপ-বৃত্তির জন্য সুবিধা ভোগী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১১৯২৩ জন। কিন্তু সুবিধা ভোগী অনেক শিক্ষার্থীই এবার উপ-বৃত্তির টাকা হতে বঞ্চিত হয়েছে। নতুন পদ্ধতিতে মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস নগদ একাউন্টের মাধ্যেমে উপ-বৃত্তির টাকা দেওয়ার সিষ্টেমে প্রযুক্তিগত সমস্যা, শিক্ষদের অদক্ষতা ও অবহেলা দরুণ এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা মনে করছেন। উপজেলা ব্যাপী প্রায় সব স্কুলেই কিছু কিছু শিক্ষার্থী উপ-বৃত্তির এ অর্থ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের মাঝে অসন্তোষ ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অর্থের অভাবে শিার সুযোগ বঞ্চিত দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে বৃত্তি প্রদানের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে একটি ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করা হয়েছে। পরবর্তীতে ২০১২ সালে প্রধানমন্ত্রীর শিা সহায়তা ট্রাস্ট এর স্থায়ী তহবিল হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে সিডমানি হিসেবে ১০০০.০০ (এক হাজার ) কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে যা বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি তফসিলি ব্যাংকে এফ. ডি. আর. হিসেবে রতি আছে। উক্ত এফ. ডি. আর. থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ দ্বারা ছাত্র-ছাত্রীদের উপবৃত্তি ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। সরকার যখন শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি করতে আন্তরিক। তখন রূপসায় শিক্ষকদের অবহেলা ও অদক্ষতায় ২০২১-এর উপ-বৃত্তির টাকা হতে বঞ্চিত হয়েছে রূপসা উপজেলার অধিকাংশ প্রাইমারি স্কুলের অনেক শিক্ষার্থী । অভিযোগ উঠে, বাগমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩৮০ জন উপকার ভোগী উপ-বৃত্তির জন্য তালিকা ভুক্ত ছিল। কিন্তু উপ-বৃত্তির টাকা পেয়েছেন ৩৪৭ জন শিক্ষার্থী। বাগমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণী রোল নং ৭, শিক্ষার্থী মেহেজাবিন রওযা’র মা শিউলী বেগম আপে করে বলেন- আমার মেয়ে ১ম শ্রেণী থেকে আজ ৪র্থ শ্রেণী পর্যন্ত এই স্কুলে পড়তেছে। এর আগে উপ-বৃত্তির টাকা পেয়ে আসলেও এবার টাকা পেল না। আমরা নগত একাউন্ট খুলেছি, সেই মোবাইল নাম্বার, এনআইডি কার্ড ও আমার মেয়ের জন্মনিবন্ধণ কার্ডও স্কুলে জমা দিয়েছি। তবে কেন টাকা পেলাম না আমি তা’জানতে চায়। আর শিক্ষার্থী মেহেজাবিন রওজা দাবি করে বলেন, তার নাম মেহেজাবিন রওজা,র স্থঃলে মেহেজাবিন ফারিয়া দিয়েছে। আর এই ভূলের কারণে আমার টাকা আসেনি। এতে আমার মন খুবই খারাপ। অভিযোগের ভিত্তিতে বাগমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় উপস্থিত ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বলেন, আমাদের মোবাইল নাম্বার ভুল লিখেছে, কারো জন্ম নিবন্ধনের সমস্যা, নগদ একাউন্ট খোলা সিমের রেজিষ্ট্রিশন কৃত এনআইডির সাথে নগদের তথ্য দেওয়ার কোনো মিল না থাকায় আমাদের ছেলে মেয়েরা উপবৃত্তির টাকা হতে বঞ্চিত হচ্ছে। আমরা শিক্ষকদের কাছে টাকা না ঢোকার কারণ জানতে চাইলে তারা আমাদের কোনো সান্ত¦না না দিয়ে উল্টো আমাদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন। আমরা এখন কার কাছে যাবো? এ বিষয়ে বাগমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তহমিনা আক্তার বলেন, নতুন সিষ্টেম চালু হওয়ায় আমাদের বুঝেতে কিছু সমস্যা হয়েছে। কিছু কিছু অভিভাবকরা প্রয়োজনীয় কাজ পত্র দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করেননি। তাছাড়া আমরা নগদ একাউন্টের টাকা দেওয়ার সিষ্টেম ডেভলপ করার কাজের জন্য উপর থেকে খুবই অল্প সময় পেয়েছি। সহকর্মী শিক্ষকরাও আমাকে প্রত্যাশিত সহযোগীতা করেননি। ভবিষৎতে এধরণের সমস্যা আর হবে না বলে আমার বিশ্বাস । প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি প্রদান প্রকল্প-৩য় পর্যায়ের আওতায় সুবিৃধাভােগী শিক্ষার্থীদের মাঝে মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে উপবৃত্তির অর্থ বিতরণের ল্েয গত ১৩/১২/২০২০ তারিখ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও ডাক বিভাগের ডিজিটাল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস “নগদ” এর মধ্যে চুক্তি স্বারিত হয়েছিল। এ সিষ্টেমে উপবৃত্তির টাকার সঠিক ভাবে প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অভিভাবকদের করনীয় কিছু বিষয় ছিল। যেমন অভিভাবকের যে নম্বরটি নগদ একাউন্ট হিসেবে ব্যবহার করার জন্য নির্বাচন করবেন তা অবশ্যই অভিভাবকের নিজের জাতীয় পরিচয় পত্র অর্থাৎ এনআইডি দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। নগদ একাউন্টের জন্য ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি কার নামে রেজিস্ট্রেশন করা আছে তা নিশ্চিত হয়ে নিবেন। প্রয়োজনে বর্তমান সিমের মালিকানা পরিবর্তন করবেন অথবা নতুন একটি সিম আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে নগদ একাউন্ট খোলার জন্য ব্যবহার করবেন। শিক্ষকদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখতে হবে। যেমন অভিভাবকদের মোবাইল নম্বরের মালিকানা চেক: শিার্থীদের অভিভাবকের মোবাইল নম্বরটি কার নামে রেজিস্ট্রেশন করা আছে কিনা সেটি প্রথমে যাচাই করে নিতে হবে। এর জন্য অভিভাবকের মোবাইল নম্বরটির সাথে তার জাতীয় পরিচয় পত্র গ্রহণ করবেন। সিমের মালিকানা যাচাই করা। নগদ লাইভ পোর্টালে উপবৃত্তির তথ্য এন্ট্রি:। এর ব্যপ্তায় ঘটলে উপবৃত্তির টাকা পেতে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। রূপসা উপজেলা শিক্ষা অফিসার শেখ আব্দুর রব বলেন, নগদের সফটোয়ার ও প্রযুক্তিগত সমস্যা কারণে কিছু শিক্ষার্থী উপবৃত্তির টাকা পেতে সাময়িক অসুবিধা হয়েছে। আমরা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ অব্যহত রেখেছি, আশা করা যাচ্ছে অচিরেই এই সমস্যার সমাধান হবে। আর যদি কোনো শিক্ষকদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ পাওয়া যায়। তাহলে আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।

     More News Of This Category

ফেসবুক