শহীদ মিনারে ফকির আলমগীরের শেষ শ্রদ্ধা, তালতলা কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন

Spread the love

ইবাংলা ডেস্কঃ
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দ সৈনিক, দেশবরেণ্য গণসংগীত শিল্পী ফকির আলমগীরের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। জোহরের নামাজের পর দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর খিলগাঁও মাটির মসজিদে দ্বিতীয় নামাজে জানাজা শেষে করোনার স্বাস্থ্যবিধি মেনেই তার দাফন সম্পন্ন হয়।
সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হয় ফকির আলমগীরের মরদেহ। বৃষ্টির জন্য দুপুর সোয়া ১২টায় নাগরিক শ্রদ্ধাঞ্জলি শুরু হয়। দুপুর ১টা পর্যন্ত শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের জন্য রাখা হয়।
মৃত্যুর পর খিলগাঁওয়ের তালতলা কবরস্থানে যেন দাফন করা হয় এমন ইচ্ছের কথা জানিয়েছিলেন প্রখ্যাত গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীর। সেই ইচ্ছে অনুযায়ী বাদ যোহর এই শিল্পীকে এই কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

ফকির আলমগীর-এর ছেলে মাশুক আলমগীর রাজীব বলেন, গত বছর আমার শ্বশুর মারা যান। তালতলা কবরস্থানে তাঁকে দাফন করতে যেয়ে বাবা এমন ইচ্ছের কথা জানিয়েছিলেন।

মাশুক আলমগীর রাজীব জানান, শনিবার সকাল ১১টায় খিলগাঁও পল্লীমা সংসদ প্রাঙ্গনে বাবার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় । এরপর তাঁর লাশ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হয়। সেখানে এক ঘণ্টা রাখার পর খিলগাঁও মাটির মসজিদ প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় জানাজা ও গার্ড অব অনার শেষে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ফকির আলমগীর (৭১) শুক্রবার রাত ১০টা ৫৬ মিনিটে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ১৯৫০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থানার কালামৃধা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মো. হাচেন উদ্দিন ফকির, মা বেগম হাবিবুন্নেসা। কালামৃধা গোবিন্দ হাইস্কুল থেকে ১৯৬৬ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে জগন্নাথ কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকে স্নাতক পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন।

ফকির আলমগীর ষাটের দশক থেকে সংগীতচর্চা করেছেন। গান গাওয়ার পাশাপাশি বাঁশীবাদক হিসেবে তাঁর খ্যাতি ছিলো। বাংলাদেশের সব ঐতিহাসিক আন্দোলনে তিনি তাঁর গান দিয়ে মানুষকে উজ্জীবিত করার চেষ্টা করেছেন। ‘৬৯-এর গণ–অভ্যুথান, ‘৭১–এর মুক্তিযুদ্ধ ও ‘৯০–এর সামরিক শাসনবিরোধী গণ–আন্দোলনে তিনি শামিল হয়েছিলেন তাঁর গান দিয়ে।

     More News Of This Category

ফেসবুক