নিষিদ্ধ টিকটক কে বিশুদ্ধ করার অপকৌশল নিয়েই কাজ করছে টিকটক এবং স্নাক ভিডিও এ্যাপ

Spread the love

শেখ মাহাবুব আলম খুলনা জেলা প্রতিনিধি:

সরকারি ভাবে টিকটক, বিগো লাইভ, এবং লাইকি বন্ধ করার ঘোষণা হওয়ায়, ঐ নিষিদ্ধ এ্যাপের কর্তৃপক্ষ অথবা প্রতারক মহল তাদের প্রচার ও প্রসার এবং বিস্তারে গ্রহণ করেছে নতুন কৌশল ও পদ্ধতি।

তারা স্ন্যাক ভিডিও ( snack video) এবং টিকটক ইনভাইটেশন পদ্ধতিতে দুটি এ্যাপ ব্যবহার করছে। আর
এর মধ্যে স্নাক ভিডিও এ্যাপ থেকে নতুন কোন ইউজারকে ইনভাট করলেই দেয়া হচ্ছে টাকা। এই টাকার পরিমাণ কখনও ত্রিশ টাকা, কখনও নব্বই টাকা, কখনও তিনশত টাকা। কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো, আপনি বা আমি ইনভাইট করলেই টাকা টা পাবো না, ইনভাইট করার পরে, সে যদি টিকটক একউন্ট খুলে, তাহলে ইনভাইট করা ব্যক্তি পাবে মাত্র ১০ টাকা। আর বাকি টাকা টা তখন পাবে, যখন তার ইনভাইট করা বন্ধুটি নিয়মিত স্নাক ভিডিও এ্যাপের মাধ্যমে ভিডিও দেখবে।

ভিডিও দেখার ক্ষেত্রেও প্রথমে বলা হয়, মাত্র ১৫ মিনিট ভিডিও দেখলেই প্রতিদিন ২৫ টাকা করে ইনকাম হবে। অথচ দুই ঘন্টা, তিন ঘন্টা ভিডিও দেখলেও কোন ইনকাম হয় না। তারা কিছু পয়েন্ট যোগ করে দেন।
একটি ভিডিও দেখলে সেখান থেকে ৪ পয়েন্ট পাওয়া যায়, এবং প্রতি ৬ নং ভিডিও থেকে পাওয়া যায় ১১ পয়েন্ট। এর মাঝে আপনাকে প্রতি দিন ১০০ থেকে ২০০ পয়েন্ট বোনাস দেয়া হবে। আর ইনভাইটেশন লিঙ্ক শেয়ার করে আপনি প্রতিদিন পাবেন ৬০০ পয়েন্ট। সব থেকে মজার বিষয় হলো, ৫০ পয়েন্টের মূল্য বাংলাদেশী টাকা ৫০পয়েন্ট= ০.০১ টাকা।
তাহলে ১০ টাকা ইনকাম করতে লাগে ৫০০০০ পয়েন্ট। যদিও ভিডিও দেখে এতগুলো পয়েন্ট অর্জন করা কোন ভাবেই সম্ভব নয়। কারন হলো লিমিটেশন। আপনি ভিডিও দেখতে দেখতে একসময় দেখবেন, আপনার পয়েন্ট আর যোগ হচ্ছে না। অর্থাৎ লিমিটেশন শেষ।
অর্থাৎ সারাদিনেও আপনি ৫ টাকাও ইনকাম করতে পারবেন না। তবে আপনার ইনভাইট করা বন্ধু যদি স্নাক এ্যাপে টিকটক দেখে, তাহলে আপনি পয়েন্ট পাবেন। দুই টাকা – চার টাকা ইনকাম করতে পারবে প্রতিটি বন্ধুর মাধ্যমে।

আবার টিকটক ইনভাইটেশন এ্যাপ যেটা, সেটা একটি বন্ধুকে ইনভাইট করার পরে সে যদি ইনভাইট লিঙ্ক থেকে টিকটক এ্যাপ টি ডাউনলোড করে এবং তার একাউন্ট খুলে, তাহলে ইনভাইট করা বন্ধু টি সাথে সাথে পেয়ে যাবেন ৬০ টাকা। আর যে ব্যক্তি লিঙ্ক ব্যবহার করে নতুন একাউন্ট খুলল, সে পাবে মাত্র দশ টাকা। তারপরেই শুরু নানা ভাবে প্রলোভন দেখিয়ে একাউন্ট খোলার প্রতিযোগিতা। প্রলোভন দেখানো হয়, চার শত টাকা থেকে পাঁচ হাজার সাত শত টাকা আয় করার মহা সুযোগের কথা বলে। নিজের ইনভাইট লিঙ্ক ব্যবহার করে তিন দিনের মধ্যে তিনটি একাউন্ট খুলে দিতে পারলে, পাওয়া যাবে ৪০০ টাকা, ৬ টি একাউন্ট খুলে দিতে পারলে ৭০০ টাকা এবং ২০ টি একাউন্ট খুলে দিতে পারলেই ৫৭০০ টাকা।
কারও যদি ৩ দিনের মধ্যে ৩ টি একাউন্টের মধ্যে ২ টি খোলা হয়, সে কোন বোনাস পাবে না। ৬টির ক্ষেত্রে ৫ টি হলেও পাবে তিনটির টাকা।
২০ টি একাউন্টের ক্ষেত্রে ১৯ টি খুললেও পাবে মাত্র ৬ টি একাউন্টের জন্য বরাদ্দ করা ৭০০ টাকা।
এই টিকটক ইনভাইটেশন পদ্ধতিতে ভিডিও আপলোড করে পাওয়া যায় ৮০০ পয়েন্ট, ৫ মিনিট থেকে ২৫ মিনিট ভিডিও দেখলে পাওয়া যায় প্রতিদিনের ঘোষণা অনুযায়ী পয়েন্ট। কিন্তু এই অর্জিত পয়েন্ট থেকে ইনকাম একটি টাকাও আসে না। অথচ এই পঁচিশ মিনিটের ভিডিও ২ থেকে ৩ ঘন্টা দেখার পরও ঐ পঁচিশ মিনিটের টার্গেট পুরণ হয় না।
পুরোপুরি প্রতারণা।

আপনি এই সব প্রতারক এ্যাপ যদিও টুকিটাকি ১০/২০ টাকা ইনকাম করেনও সেটা কিভাবে উয়িদড্র করবেন। স্নাক ভিডিও তে উয়িদড্র করার একমাত্র পথ ফ্লেক্সিলড করা। আর টিকটক ইনভাইটেশন পদ্ধতিতে ফ্লেক্সিলড এবং মোবাইল ব্যাংকিং পদ্ধতি ব্যবহার করা যায়।

এই সব নিষিদ্ধ এ্যাপ কিভাবে খোলামেলা ভাবে বাংলাদেশের অনলাইনে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে সেটা আমাদের মাঝে বোধগম্য নয়। প্রশাসন কি চোখ এড়িয়ে চলছে নাকি সত্যি সত্যি এই সব এ্যাপ সম্পর্কে তারা কিছুই জানেন না। আমরা প্রশাসনের নিকট আবেদন করছি, প্রশাসন যেন দ্রুত তদন্তের ব্যবস্থা গ্রহন করেন এবং এই সব এ্যাপের মালিক ও পরিচালকদের দ্রুত শাস্তির আওতায় নিয়ে আসেন।

     More News Of This Category

ফেসবুক