রূপসার শিয়ালী ৪ টি মন্দিরে অতর্কিত হামলা, প্রতিমা ভাংচুর ও লুটপাট

Spread the love

রূপসা প্রতিনিধি: রূপসা উপজেলার ঘাটভোগ ইউনিয়নের শিয়ালী গ্রামে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ৪ টি মন্দিরের প্রতিমা, ৬ টি দোকান এবং ২ টি বা যায়। এরপর তারা শিয়ালী পূর্বপাড়া এলাকায় হামলা চালায়। এ সময় শিয়ালী পূর্বপাড়া হরি মন্দির, শিয়ালী পূর্বপাড়া দূর্গা মন্দির এবং শিবপদ ধরের গোবিন্দ মন্দিরে রক্ষিত সকল প্রতিমা ভাংচুর করে। তারা এসময় শিবপদ ধরের বাড়ীতে হামলা চালিয়ে ৫ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে নিতে বলে। সে মোতাবেক মহিলা ভক্তরা যার যার বাড়ীতে চলে যায়। এই ছোট একটি ঘটনাকে পুজি করে শেখপুরা, চাদপুর এলাকারয়েড়ীতে হামলা চালিয়ে ৫ লক্ষাধিক টাকা লুট করে নিয়েছে দুস্কৃতকারীরা। ঘটনার পর এলাকায় জেলা পুলিশ সুপার সহ পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং এলাকায় দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সরেজমিনে ঘুরে ও এলাকাবাসীর সাথে আলাপ করে জানাগেছে গত ৬ আগষ্ট রাতে শিয়ালী গ্রামের কয়েকজন মহিলা নামকীর্ত্তন করতে করতে শিয়ালী শ্মশান মন্দিরের দিকে যাচ্ছিল। তারা শিয়ালী জামে মসজিদের নিকট পৌছালে মসজিদের ইমাম মসজিদ থেকে বের হয়ে এসে তাদেরকে বাদ্য বাজনা বন্ধ করতে নিষেধ করে এবং উক্ত এলাকা ছেড়ে চলে যে কতিপয় উশৃংখল ব্যক্তিরা ৭ আগষ্ট পৌনে ৬ টার দিকে শিয়ালী গ্রামে দ্বিমুখী ভাবে হামলা চালায়। তারা প্রথমে শিয়ালী মহাশ্মশান মন্দিরে হামলা চালিয়ে সেখানকার সকল প্রতিমা ভাংচুর করে এবং শ্মশানের যাবতীয় উপকরণ ভাংচুর করে। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছানোর আগে তারা পালিয়ে যায়। এরপর হামলাকারীরা বলাই মল্লিকের দোকান ও বাড়ী, অনির্বান হীরার চায়ের দোকান, প্রিতম মজুমদারের মেশিনারিজের দোকান, পনেশ মল্লিকের ঔষধের দোকান, শ্রীবাস মল্লিকের মুদিখানা দোকান এবং সৌরভ মল্লিকের মুদিখানা দোকান ভাংচুর করে। উক্ত উশৃংখল যুবকেরা এ সময় রাম দা, কুড়াল, লাঠি, চাপাতি সহ দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে। ঘটনার পর খবর পেয়ে জেলা পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুবাইয়া তাছনিম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) খান মাসুম বিল্লাহ, রূপসা থানার ওসি সরদার মোশাররফ হোসেন, ইউপি চেয়ারম্যান সাধন অধিকারী, পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শক্তিপদ বসু, সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণ গোপাল সেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাপা উত্তেজনা,ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এলাকায় দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন ছিল।

     More News Of This Category

ফেসবুক