পাসপোর্ট সেবায় এজেন্ট নিয়োগের চিন্তা

Spread the love

ইবাংলা ডেস্কঃ
রাজধানীর আগারগাঁওসহ সারাদেশের পাসপোর্ট অফিসে দালালদের দৌরাত্ম্য ও সেবা প্রার্থীদের ভোগান্তি কমাতে ‘এজেন্ট’ নিয়োগ দিতে চায় ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অনুমতি চেয়ে চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি। পাসপোর্ট এজেন্ট লাইসেন্সিং নামে একটি বিধিমালা তৈরির কাজও শুরু করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর। তবে নতুন ব্যবস্থা চালু হলে সরকার নির্ধারিত যোগ্যতা অনুযায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ পেতে পারবেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, এখন এজেন্টদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিধিমালা তৈরির কাজ করছে মন্ত্রণালয় ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর। পাসপোর্ট অধিদপ্তরের দাবি- পাসপোর্ট আবেদনের অতিরিক্ত চাপ কমাতে এ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে তারা। এদিকে আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কায় ‘এজেন্ট’ নিয়োগের এই উদ্যোগে আগ্রহ নেই দালালদের।
সূত্র জানায়, রাজধানী ঢাকার আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিস ঘিরে আড়াইশর বেশি দালাল সক্রিয়। এদের সঙ্গে আনসার সদস্য ও পাসপোর্ট অফিসের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশ রয়েছে। দেশের প্রায় সব পাসপোর্ট অফিসের একই অবস্থা। বাংলাদেশে বহু মানুষ পাসপোর্ট ফরম পূরণ, ফরম জমা দিয়ে ছবি তোলা ও বায়োমেট্রিকের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া এবং ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার মতো সাধারণ এবং অত্যাবশ্যকীয় কাজের জন্য দালালের সহায়তা নেন। আবার এই পাসপোর্ট করতে গিয়ে তাদের অনেকে ভোগান্তির শিকার হন এমন অভিযোগও শোনা যায়। আর এ ক্ষেত্রে অভিবাসী শ্রমিকরাই বেশি ভুক্তভোগী হন। এ ধরনের ঘটনা আগারগাঁওয়ে বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিস থেকে শুরু করে দেশের প্রায় সব জেলাতেই থাকা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাসপোর্ট করতে আসা মানুষকে জিম্মি করে দালালচক্রটি হাতিয়ে নেয় মোটা অঙ্ক। বিভিন্ন সময় দালালচক্রের হয়রানি ঠেকাতে অভিযান পরিচালনা করা হলেও নির্মূল করা সম্ভব হয়নি।
স্বারাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দেওয়া চিঠিতে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর জানিয়েছে, অনেকে পাসপোর্টের আবেদনের নিয়ম জানে না। ঠিকমতো নাম-ঠিকানা লিখতে পারে না। ত্রুটিপূর্ণ আবেদনপত্র নিয়ে এসে হয়রানির শিকার হয়। আবার দালালরাও এ সুযোগে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়। তাই এ হয়রানি থেকে মুক্তির জন্য দালালদের মধ্য থেকে যোগ্যদের এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ করতে চায় অধিদপ্তর। প্রাথমিকভাবে মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পেলে এজেন্টদের যোগ্যতা নির্ধারণসহ একটি বিধিমালা করা হবে। চিঠিতে আরও জানানো হয়, এজেন্টের মাধ্যমে পাসপোর্টের ফরম পূরণ ও আবেদন করতে সরকারি ফির বাইরে গ্রাহকের অতিরিক্ত টাকা খরচ হতে পারে। খরচটি চূড়ান্ত না হলেও সেটি অবশ্যই সরকারি ফির ১০ শতাংশের কম হবে।
এদিকে নির্দিষ্ট ফির বিনিময়ে এজেন্ট নিয়োগের এই উদ্যোগে আগ্রহ কম দালালদের। আগারগাঁও পাসপোর্টের সামনে কথা হয় কয়েকজন দালালের সঙ্গে। তারা জানান, বর্তমানে এজেন্ট নিয়োগের কথা তারাও শুনেছেন। পাসপোর্ট প্রতি এখন তারা ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ইনকাম করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বলেন, এজেন্ট করলে আমাদের আয় কমে যাবে। তা ছাড়া জানতে হবে কীভাবে হচ্ছে সব কিছু।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আইয়ুব চৌধুরী বলেন, এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বলার মতো কোনো অগ্রগতি নেই। আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। তবে অনেক পাসপোর্ট আবেদনকারী নিজেরা ফরম পূরণ করতে পারেন না। ব্যাংকে টাকা জমা দিতে গিয়েও ভোগান্তিতে পড়েন। এ সুযোগটিই দালালচক্র নিয়ে থাকে। আর এ ভোগান্তির দায় নিতে হয় পাসপোর্ট অধিদপ্তরকে। এ জন্য ফরম পূরণে সহায়তাকারীর যদি বৈধতা থাকে, পরিচয় থাকে, তা হলে দালালদের ওপর নির্ভরশীল হতে হবে না।

     More News Of This Category

ফেসবুক