মাতৃগর্ভে থাকা কালিন গুলিবিদ্ধ সেই সুরাইয়া স্কুলে ভর্তি হয়েছে

Spread the love

মাগুরা প্রতিনিধিঃ মাগুরা শহরের পুলিশ লাইনস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণিতে তাকে ভর্তি করা হয়েছে।
রোববার সকালে মা-বাবার কোলে চড়ে সুরাইয়া স্কুলে যায়। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা বেড়ে যাওয়ায় সে ঠিকমতো হেঁটে স্কুলে যেতে পারেনি।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক রোকসানা আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘সোমবার সে স্কুলে আসেনি। তবে মঙ্গলবার অথবা বুধবার স্কুলে বই নিতে আসবে।’
প্রায় ছয় বছর আগে ২০১৫ সালের ২৩ জুলাই মাগুরা শহর এলাকার দোয়ারপাড়ায় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে ক্রসফায়ারে পড়েন সুরাইয়ার মা নাজমা বেগম।
সে সময় গর্ভে থাকা শিশুটিও আঘাত পায় গুলিতে। মাগুরা সদর হাসপাতালে অস্ত্রোপচারে তার জন্ম হয়। এখন পর্যন্ত শরীরে সেই সব ক্ষত ঠিক হয়নি। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়েই বেড়ে উঠছে শিশুটি।
সুরাইয়ার মা নাজমা বেগম জানান, গুলিতে সুরাইয়ার ডান চোখটি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। বাম চোখের অবস্থাও ভালো না। মেয়েটির শরীরের ডান পাশটিও ঠিকভাবে কাজ করছে না।
তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ের বয়সীরা এখন দৌড়ায়, খেলাধুলা করে। কিন্তু সে কিছুই পারে না। এমনকি দাঁড়াতেও পারে না। কারও সাহায্য ছাড়া হাঁটতে পারে না। তার গলায় একটি টিউমারও ধরা পড়েছে।’
সুরাইয়ার মা জানান, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের যে চিকিৎসকদের দেখানো হয়েছিল, তারা করোনার সময়ে সময় দিতে পারেননি। তবে তারা জানতে পেরেছেন, উন্নত চিকিৎসা দিতে পারলে মেয়েটি ভালো হয়ে যাবে।
‘কিন্তু আমাদের সেই অর্থনৈতিক ক্ষমতা নেই যে তাকে উন্নত চিকিৎসা দেব। অনেকে কথা দিয়েছিল কিন্তু কাউকে আর এগিয়ে আসতে দেখছি না’- আক্ষেপ করে বলেন সুরাইয়ার মা।
২০১৫ সালের ২৩ জুলাই সন্ধ্যায় শহরতলির দোয়ারপাড় এলাকায় আধিপত্য নিয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় বাচ্চু ভুইয়ার আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী নাজমা বেগম, চাচা আব্দুল মোমিন গুলিবিদ্ধ হন।
ওই রাতেই মাগুরা সদর হাসপাতালের সার্জন শফিউর রহমান সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে গর্ভে থাকা গুলিবিদ্ধ মেয়েশিশুটির জন্মের ব্যবস্থা করেন।
জন্মানোর পর দেখা যায়, গুলিটি শিশুর পিট দিয়ে ঢুকে বুকের ডান পাশ দিয়ে বের হয়ে ডান চোখে আঘাত করে। ২৫ জুলাই রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিক্যালে পাঠানো হয়। ২৫ দিনের চিকিৎসা শেষে ঢাকা থেকে সে বছরের ২০ আগস্ট সুরাইয়াকে নিয়ে বাড়িতে ফিরে আসেন মা-বাবা।

     More News Of This Category

ফেসবুক