এখনই লকডাউন নয়, খোলা থাকবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

Spread the love

ইবাংলা প্রতিনিধিঃ করোনাভাইরাসের সবচেয়ে সংক্রামক ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন ঠেকাতে দেশে এখনই লকডাউনের মতো কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের কথা ভাবছে না সরকার। বরং এই ভাইরাস প্রতিরোধের ওপর জোর দেয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের জন্য করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা নিশ্চিত করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও খোলা থাকবে।

সোমবার সচিবালয়ে ওমিক্রন নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান।
সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে শুরু হওয়া এ বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বিশেষ অতিথি হিসেবে এতে উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বর্তমান অবস্থায় দেশের হোটেল-রেস্টুরেন্ট বন্ধ বা খোলা রাখার সময়সীমা বেঁধে দেয়ার বিষয়ে নতুন কোনও সিদ্ধান্ত নেই। তবে যারা করোনারোধী টিকা নেননি তারা রেস্টুরেন্টে বসে খেতে পারবেন না।’
আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত জানিয়ে গণমাধ্যমকে জাহিদ মালেক বলেন, ‘স্থলবন্দরগুলোতে স্ক্রিনিং বাড়ানোর কথা আলোচনায় এসেছে। পাশাপাশি যারা বিদেশ থেকে আসবেন তাদের পুলিশ পাহারায় কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করার বিষয়টি এসেছে। উদ্দেশ্য, দেশে আগতদের কেউ যেন নজরদারির বাইরে গা-ঢাকা দিয়ে থাকতে না পারেন।

‘গণপরিবহনে সক্ষমতার কম যাত্রী পরিবহন কার্যকর করার বিষয়টিও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সব ক্ষেত্রে মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করা নিয়েও কথা হয়েছে। মাস্ক না পরলে জরিমানার বিষয়টিও উঠেছে।’
তিনি বলেন, ‘যারা টিকা লিখেছেন তারা স্বাভাবিক ভাবে মাস্ক পড়ে রেস্টুরেন্টে যেতে পারবেন। যারা টিকা নেন নি তারা পারবেন না। রেস্টুরেন্টে খেতে গেলে টিকার প্রমাণপত্র দেখাতে হবে। এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে কোনও রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা না করলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

লকডাউন দেয়ার বিষয়ে বৈঠকে কোনো কথাবার্তা হয়েছে কি না জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘না, লকডাউনের সুপারিশ আমরা এখনো করিনি। লকডাউনের পরিস্থিতি এখনো হয়নি। আমাদের যাতে লকডাউনের পর্যায়ে যেতে না হয়, সেজন্যই আজকের এই প্রস্তুতি সভা। আগে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলো আমরা নিই, তারপর দেখা যাক পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে আলোচনার ভিত্তিতে গৃহীত নতুন বিধি-নিষেধ আরোপের বিষয়ে ১৫ দিনের মধ্যে জ্ঞাপন জারি করা হবে।’
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন- জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. লোকমান হোসেন মিয়া, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মকবুল হোসেন এবং তথ্য অধিদফতরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. শাহেনুর মিয়া।

     More News Of This Category

ফেসবুক