তীব্র যানজটে সীমাহীন ভোগান্তিতে খুলনার নগরবাসী আশু পদক্ষেপ কাম্য

Spread the love

খুলনা বিশেষ প্রতিনিধিঃ বিভাগীয় শহর খুলনা মহানগরীর ব্যস্ততম সড়ক, মোড় থেকে শুরু করে অলিগলিতে তীব্র যানজটে ভোগান্তির সীমা নেই। ছুটির দিন ব্যতীত সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা আর সন্ধ্যা৬ থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত যানজটের ভোগান্তি নিত্যদিনের। অগণিত ইজিবাইক, বেপরোয়া মাহেন্দ্রা-থ্রি হুইলারের মধ্যে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি। এ যেন গোঁদের ওপর বিষফোঁড়া। নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে ক্ষুব্ধ নগরবাসী। প্রধান প্রধান সড়কে ইজিবাইকের সংখ্যা ও রুট নির্ধারণসহ একেরপর এক পরিকল্পনা নিলেও কার্যত শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা ফিরছে না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর শিববাড়ী, পাওয়ার হাউজ, ফেরিঘাট, ডাকবাংলা , শান্তিধাম, ময়লাপোতা মোড়, শামসুর রহমান রোড, বাবু খান রোড , সাউথ সেন্ট্রাল রোড, সিমেট্টি রোড, স্যার ইকবাল রোড, পিটিআই মোড়, টুটপাড়া কবরখানা মোড়, সাতরাস্তার মোড়, ফুলমার্কেট, ক্লে রোড, কদমতলা স্টেশন রোড, কালীবাড়ি রোড, গল্লামারী মোড়, ফুলবাড়িগেট ও দৌলতপুর বাসস্ট্যান্ডসহ নগরীর ব্যস্ততম সড়কে প্রতিদিনই আটকে পড়ছেন কর্মব্যস্ত মানুষ। এসব স্থানে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও বেপরোয়া মাহেন্দ্রা দখল নিয়েছে। অফিস, স্কুল-কলেজে প্রবেশ ও ছুটির সময়ে যানজটে ক্ষুব্ধ হচ্ছেন কর্মজীবী ও শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা। ইজিবাইক এর লাইসেন্স দিয়ে, সংখ্যা কমিয়েও যানজট নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না কেএমপি’র ট্রাফিক বিভাগ।
একাধিক ট্রাফিক সদস্য জানান, প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত অন্তত হাজার হাজার অটোরিকশা আর ইজিবাইকের গতিরোধ করে ভিন্ন পথে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। একটি ইজিবাইকের গতিরোধ করে কথা বলার সময় অন্যগুলো ফাঁকি দিয়ে চলে যায়।
কেএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) জানান, জেলা প্রশাসন, কেসিসি, কেএমপি যৌথ উদ্যোগে শহরে নির্দিষ্ট পাঁচ হাজার ইজিবাইক চলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এজন্য সিটি কর্পোরেশনকে তালিকা প্রস্তুতের দায়িত্ব দেয়া হলেও দীর্ঘ সময়ে তা সম্পন্ন হয়নি। ফলে ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণে আমাদের বেগ পেতে হচ্ছে। দিনের বেলায় আমরা বন্ধ রুটে ইজিবাইক থামিয়ে যাত্রী নামিয়ে দেই। কিন্তু সন্ধ্যার পরে যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ছেড়ে দেই। ট্রাফিকের ডিউটি এখন ১ ঘণ্টা বাড়িয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত করা হয়েছে।
সিটি করপোরেশনের সূত্রমতে, শহরে লাইসেন্সধারী (পায়ে চালিত) রিকশা ১৭ হাজার হলে চলাচল করে ২০ সহ¯্রাধিক। এছাড়া অগণিত মোটরচালিত রিকশা চলাচল করছে। এক হাজার ৯৬৩টি অনুমোদিত হলেও শহরে ইজিবাইক চলাচল করে কমপক্ষে ২০ হাজার।অনুমোদনহীন এই সব অতিরিক্ত যানবাহন রাস্তায় ট্রাফিক জ্যাম সৃষ্টির অন্যতম কারণ।

বিআরটিএ’র সূত্র বলছে, শহরে অনুমোদিত মাহেন্দ্রার সংখ্যা প্রায় ৭ হাজার। এসব মিলে ১৫ লাখ মানুষের বসবাস খুলনা শহরের ৬৪০ দশমিক ৬৮ কিলোমিটার সড়কে অপরিকল্পিত ও মাত্রাতিরিক্ত যানবাহন চলাচল করছে।
যানজটে আটকে পড়া কয়েকজনের সাথে কথা বললে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন তারা। তাদের অভিযোগ, খুলনা মহানগরীর যানজট এখন নিত্যদিনের ঘটনা। দীর্ঘদিন ধরে নগরবাসী যানজটের দুর্ভোগে অতিষ্ঠ হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। যানজটের কারণে কর্মস্থলমুখী অনেকেই এখন গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও ব্যস্ততম সড়ক এড়িয়ে চলছেন। তাতেও সুফল মিলছে না; এখন অলিগলিতেও সর্বদাই জট বাঁধছে যানবাহনের। এতো দূর্ভোগের মধ্যেই শহরের কয়েকটি সড়ক খোঁড়াখুড়ির জন্য বন্ধ করে রেখেছে ওয়াসা।
শহরের যানজট নিরসনে কেসিসি, কেএমপি, জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসন সহ সাধারণ মানুষের সমন্বয়ে কাজ করা জরুরি। নগরবাসীর চলাচল নিশ্চিত করতে আমরা (ট্রাফিক )কাজ করছি। খুব অল্প সময়ের মধ্যে শহরের যানজট থাকবে না বলে আশা করছি।

এছাড়াও শহরের ফুটপাত দখল করে বিভিন্ন দোকান, চা এর টং, বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রীর দোকান এবং কাপড় বিক্রির দোকান বসানো হয়েছে। ফলে জনগণের রাস্তায় চলাচল করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও রাস্তায় লাইসেন্স বিহীন মোটর সাইকেল চালানো, ফিটনেসবিহীন গাড়ি চালানোর মাধ্যমে প্রায়শ দুর্ঘটনা ঘটছে। এ বিষয়ে ট্রাফিক পুলিশ তৎপর হলেও, একটি কে সামলাতে গিয়ে অনেকগুলি বের হয়ে গিয়ে যাচ্ছেতাই অবস্থা সৃষ্টি করে। এছাড়াও ঘর বাড়ি তৈরীর নামে রাস্তা দখল করে মালামাল রেখে, কৃত্রিম যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে প্রায় বছরে সারাটা সময় জুড়েই লেগে রয়েছে এ যানজট। তাই যানজট নিরসনে খুলনাবাসী আশু পদক্ষেপ কামনা করছে।

ট্রাফিক বিভাগ, জেলা প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের সমন্বয়ে সামনের দিনে খুলনাকে যানজটমুক্ত নগরীতে পরিণত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়।
Attachments area

     More News Of This Category

ফেসবুক