খুলনা মহানগরীতে ইজিবাইকের ভাড়া নৈরাজ্যে অতিষ্ঠ নগরবাসী ।

শেখ মাহাবুব আলম খুলনা : রূপসা ট্রাফিক স্ট্যান্ড থেকে রয়্যাল মোড়ে নেমে পাঁচ টাকা ভাড়া দেওয়ায় ইজিবাইক চালকের রীতিমতো বচসায় জড়িয়ে পড়েন টুটপাড়া মাস্টারপাড়া রোডের বাসিন্দা আমিরুল ইসলাম। চালকের দাবি দশ টাকার। একই ইজিবাইকে রূপসা ট্রাফিক মোড় থেকে উঠে সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালে নামলে এ প্রতিবেদকের কাছে ভাড়া দাবি করা হয় বিশ টাকা। নিয়মিত ভাড়া ছিল ১০ টাকা। শুধু এ দু’টি ঘটনা নয়, ইজিবাইকে এমনি ভাড়া নৈরাজ্যে অতিষ্ঠ খুলনাবাসী। নগরীতে প্রতিদিন এ ধরণের বচসা ঘটছে যাত্রী সাধারণ ও ইজিবাইক চালকদের মধ্যে।
ব্যস্ততম সড়ক-মহাসড়ক, অলি-গলি ও পাড়া-মহল্যয়­ যথেচ্ছা রুটে চলাচল করছে ইজিবাইক। যাত্রীদের কাছ থেকে চালকরা ভাড়াও আদায় করছে যাইচ্ছা। দফায় দফায় উদ্যোগ নিলেও খুলনা শহরে ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। আবার, বিভাগীয় শহর খুলনায় গণপরিবহন সংকট সমাধানের সম্ভাবনাও দেখছেন না নাগরিক নেতৃবৃন্দ। তবে ইজিবাইকের ভাড়া নৈরাজ্য নিরসন ও গণপরিবহন সংকট নিরসনে নগরপিতা তালুকদার আব্দুল খালেকের উদ্যোগ কার্যকরের প্রতিক্ষায় নগরবাসী

সূত্রে জানা গেছে, ২০১০-১১ অর্থ বছরে নগরীতে চলাচলের অনুমতি দিয়ে দুই হাজার ইজিবাইকের লাইসেন্স দেয় খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)। যদিও তখন প্রায় ২০ হাজার ইজিবাইক চলাচল করতো মহানগরীতে। পরে দীর্ঘদিন এ বিষয়ে কোন সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি কেসিসি। ২০১৮ সালের ১৫ মে কেসিসি নির্বাচনের পূর্বে ক্ষমতাসীন দল আ’লীগ মনোনীত প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক নগরীতে ইজিবাইকের রুট ও ভাড়া নির্ধারণ করে লাইসেন্স দেবার প্রতিশ্র“তি দিয়েছিলেন। সে অনুযায়ী পরের বছর ২০১৯ সালের ৬ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পাঁচশ’ টাকা মূল্যের ফরমে লাইসেন্স প্রাপ্তির আবেদন করেন চালকরা। কেসিসি, জেলা প্রশসান ও জেলা পরিষদের একাধিক বৈঠকের সিদ্ধান্ত মতে আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে ৮ হাজার ইজিবাইকের লাইসেন্স দিতে চূড়ান্ত করা হয়। ইজিবাইকের ডান পাশে বন্ধ রেখে লাল-সবুজ রং করে অনুমোদিত ইজিবাইক নির্দিষ্ট করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। রুটের খসড়া প্রস্তুত করা হলেও ভাড়া নির্ধারণের কোন সিদ্ধান্ত না হওয়ায় পূর্বের ভাড়া বহাল ছিল।

এর মধ্যে গত বছর ফেব্রুয়ারিতে আগ বাড়িয়ে ভাড়া (প্রস্তাবিত) নির্ধারণ করে দেয় ইজিবাইক শ্রমিক লীগ নামের একটি সংগঠন। পরে সংগঠনের কর্মকান্ড খুঁজে পাওয়া না গেলেও প্রস্তাবিত সেই ভাড়া দাবি করতে শুরু করেন ইজিবাইক চালকরা। করোনা পরিস্থিতিতেও স্বাভাবিক ভাড়া থাকলেও সম্প্রতি ইজিবাইক চালকরা যাইচ্ছা ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের।
স্কুল শিক্ষিকা ফাতেমা-তুজ জোহরা বলেন, রূপসা ট্রাফিক মোড় থেকে সোনাডাঙ্গাস্থ স্কুলে যেতে কোনদিন ১০ টাকা, আবার কোনো কোনো দিন ১৫ থেকে ২০ টাকা ভাড়া দিতে হয় ইজিবাইকে। কেন, একটা নির্দিষ্ট ভাড়া নির্ধারণ করে দেয়া যায় না ??।
বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ-উজ জামান বলেন, ইজিবাইকের রুট ও ভাড়া নির্ধারণ করা জরুরি। এতে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন। একই সাথে গণপরিবহন সংকট সমাধানে বিভাগীয় শহর খুলনায় নগর পরিবহন পুনরায় চালু রাখা উচিত।
“খুলনায় গণপরিবহন চাই” নামে একটি অনলাইন প্লাটফরম দাঁড় করিয়েছেন আমাদের খুলনা ফেসবুক গ্র“পের এডমিন সালেহ উদ্দিন সবুজ। তিনি বলেন, বিভাগীয় শহর খুলনায় গণপরিবহন সংকট দীর্ঘদিন। বিপুল সংখ্যক যাত্রী যাতয়াতের পরও নগর পরিবহন বন্ধ কেনো? শুধু মাত্র ব্যবসায়িক মনোভাবে ব্যক্তিস্বার্থে নগর পরিবহন বন্ধ। গণপরিবহন সংকটের সমাধান কি নেই? প্রায় ১৭ লাখ মানুষের শহর খুলনায় পরিকল্পিত গণপরিবহন ব্যবস্থা এখন সময়ের দাবি।
তবে এসব বিষয়ে কোন মন্তব্যই করতে রাজি নন কেসিসি’র যানবাহন ও লাইসেন্স শাখার কর্মকর্তারা।

     More News Of This Category

ফেসবুক