খুলনার দিঘলিয়ায় বিদ্যালয়ের কক্ষ ভাড়া দেওয়া হয়েছে ব্যাংকের কাছে

Spread the love

কামরুজ্জামান জুয়েল প্রতিনিধি খুলনা কয়েকজন শিক্ষার্থী বলছে, শ্রেণিকক্ষের পাশে ব্যাংক থাকায় পাঠদানে সমস্যা হয়।পাশাপাশি দুটি ভবন। একটি বেশ পুরোনো, আরেকটি নতুন। পুরোনো ভবনের গায়ে একটি ব্যাংকের নাম লেখা। পাশেই চলছে পাঠদানও। এটি খুলনা জেলার দিঘলিয়া উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নে হাজী নৈমুদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয় বিদ্যালয়ের চিত্র। কৌতূহল নিয়ে ভেতরে ঢুকে জানা গেল, বিদ্যালয়ের একটি নয় দুই টি বড় কক্ষ ভাড়া দেওয়া হয়েছে ব্যাংককে যাহা অফিশিয়াল ভাবে একটি কক্ষ ভাড়া দেয়া হয়েছে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কক্ষটি ভাড়া দিয়ে লাভবান হলেও পড়াশোনার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মৃণাল কান্তির দাবি পূর্বের প্রধান শিক্ষক এলাকাবাসীর সুবিধার জন্য একটি কক্ষ ভাড়া দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় লোকজন ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, ১৯৯৭ সাল থেকে হাজী নৈমুদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একটি কক্ষ গ্রামীণ ব্যাংক গাজিরহাট শাখাকে ভাড়া দেওয়া হয়। ভাড়া নেওয়ার পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নিজস্ব তত্ত্বাবধানে তাঁদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। এ জন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ব্যাংক মাসিক পাঁচ হাজার দুই শত (৫২০০) টাকা ভাড়া পরিশোধ করে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ে উভয় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চলছে। ভবনের দেয়ালে বড় অক্ষরে ‘গ্রামীণ ব্যাংক, গাজিরহাট শাখা’ লেখা রয়েছে। গ্রামীণ ব্যাংকের অফিসকক্ষের পাশের কক্ষগুলোতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে। এ ছাড়া ব্যাংকে ঋণ
দেওয়াসহ বিভিন্ন দাপ্তরিক কার্যক্রম চলার দৃশ্য চোখে পড়ে। নারীরা ব্যাংকে এসে ঋণ কার্যক্রম সেরে চলে যাচ্ছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, তাদের শ্রেণিকক্ষের পাশে ব্যাংক থাকায় পাঠদানে সমস্যা হয়। স্থানীয় তিনজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চলা বেমানান। আশপাশে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না থাকায় বাধ্য হয়ে তাঁদের সন্তানদের এখানেই পড়াচ্ছেন।

এ বিষয়ে গ্রামীণ ব্যাংক গাজিরহাট শাখা ব্যবস্থাপকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তাঁরা ১৯৯৭ সাল থেকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে মাসিক ভাড়া পরিশোধ করেন। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের কক্ষটিতে তাঁদের ব্যাংকের কার্যক্রম চলছে বলে তিনি জানান।

বিদ্যালয়ের প্রধান মৃণাল কান্তি বলেন, এলাকার প্রভাবশালীদের দাবি ও পরামর্শে একটি বড় কক্ষ ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এটা অনৈতিক ব্যাংক ভাড়া দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের সমস্যা হয় । ভাড়ার টাকা বিদ্যালয়ের কাজে ব্যয় করা হয়।

জানতে চাইলে দিঘোলিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জনাব মাহফুজুর রহমান বলেন আমিও জেলা শিক্ষা অফিসার স্কুল ভিজিট এর সময় আমাদের ব্যাংকটি দৃষ্টি আকর্ষণ হয় এবং প্রধান শিক্ষকের কাছে জানতে চাই এখানে ব্যাংক কেন। অতি দ্রুত ব্যাংক অপসারণ করার জন্য কর্তৃপক্ষকে বলা হয়। উক্ত বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার জেলা শিক্ষা অফিসার রুহুল আমিন এর বক্তব্য তিনি জানান বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এভাবে কক্ষ ভাড়া দিতে পারে না। তারা কেন ভাড়া দিয়েছে, তা জানতে চাওয়া হবে। পরবর্তী করণীয় বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

     More News Of This Category

ফেসবুক