স্বাধীনতার ৫০ বছর পার হলেও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি তেরখাদার ভূজনীয়া গ্রামের নারায়ন চন্দ্র ধর

Spread the love


তেরখাদা প্রতিনিধিঃ
১৯৭১সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশ নিয়ে স্বাধীনতার ৫০বছর পার হলেও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি তেরখাদা উপজেলার ভূজনীয়া গ্রামের মৃত নারায়ন চন্দ্র ধর। মুক্তিযোদ্ধা নারায়ন চন্দ্র ধরের পরিবার পরিজন তার মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাবার আশায় আজও মানুষের দ্বারে দ্বারে ধর্ণা ধরছে।স্বাধীন বাংলাদেশে এখন পরাধীনতার গ্লানিতে নিমজ্জিত হয়ে বেঁচে আছে বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী ও একমাত্র পুত্র। মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি না হওয়ায় অতি দুঃখ কষ্ট বুকে ধারণ করে ১৯৮৭ সালে মারা যান তিনি। বাবার নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি ও গেজেট ভুক্ত করার জন্যে তার সন্তান বিষ্ণু পদ ধর স্বাধীনতার সনদ ও অস্ত্র জমার সার্টিফিকেটসহ জেলা কমান্ডার,
থানা কমন্ডার ও সহযোদ্ধাদের প্রত্যয়ন এবং অন্যান্য কাগজপত্র নিয়ে ঘুরছেন মানুষের দ্বারে দ্বারে।নারায়ন চন্দ্র ধর -৯ নম্বর সেষ্টরে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।তার স্বাধীনতা সংগ্রামের সনদ নং-৯৬৩২৭। তাকে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর অধিনায়ক মুহম্মাদ আতাউল গনি ওসমানী এবং ৮ নম্বর সেষ্টরের আঞ্চলিক অধিনায়ক স্বাধীনতা সংগ্রামের সনদ প্রদান করেন।নারায়ন চন্দ্র ধর স্বাধীনতা যুদ্ধ শেষে ১৯৭২ সালের ৪ঠা ফেব্রুয়ারী তারিখ ৩০৩ রাইফেল ফুলতলা মিলিশিয়া ক্যাম্পে অস্ত্র জমাদেন।২৭/০২/১৯৭২ সালে উত্তর খুলনা মুক্তিবাহিনীর কমান্ডার ক্যাপ্টেন ফহম উদ্দিন এবং উত্তর খুলনা মুক্তিবাহিনীর প্রধান বোরহান উদ্দিনও মুক্তিযোদ্ধার প্রতায়ন প্রদান করেন।গত ০১/০১/২০০৮ সালে উত্তর খুলনা মুক্তিবাহিনীর তেরখাদা খুলনার যুদ্ধাকালীন কমান্ডার মোঃ নুরুল হক মোল্যাও স্বীকৃতি দেন।তিনি তার লিখিত প্রত্যয়নে বলেন নারায়ন চন্দ্র ধর পাতলা ক্যাম্পে ২১ দিন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে তার নেতৃত্বে তেরখাদা,হাড়িখালি এবং বেলফুলিয়ার বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধ করেছেন।তার স্বাধীনতা সংগ্রামের সনদপত্র ক্রমিক নং-৯৬৩২৭।
২০০৮ সালে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার সরদার মাহাবুবার রহমান তার মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি স্বরুপ প্রত্যয়ন প্রদান করেন।নারায়ন চন্দ্র ধরের সহযোদ্ধা ছিলেন মোঃ বোরহান উদ্দিন আহমেদ (গেজেট নং- ১২৮) লাল মুক্তিবার্তা নং- ০৪০২০২০২০১, শেখ লাহু মিয়া,লাল মুক্তিবার্তা নং-০৪০২০২০২৩৭,লস্কর শওকত আলী, মুক্তিবার্তা নং-০৪০২০২০২২১,ইসমাইল সরদার,মুক্তিবার্তা নং-০৪০২০২০২০০৪০,মকিত সরদার,মুক্তিবার্তা নং-০৪০২০২০১১৮,কেরামত আলী, মুক্তিবার্তা নং-০৪০২০২০১০৪,সুমঙ্গল, মুক্তিবার্তা নং-০৪০২০২০৩২৮,নারায়ন চন্দ্র ধরের এলাকার তালিকা নং-১০০ এবং জেলার তালিকা নং-২৫৭।নারায়ন চন্দ্র ধরকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্যে শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ান,সাবেক এম পি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মোল্যা জালাল উদ্দিন এবং খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকও সুপারিশ করেন।নারায়ন চন্দ্র ধরের একমাত্র পুত্র বিষ্ণু পদ ধর বলেন, তার বাবার কাগজপত্র নিয়ে দীর্ঘ ২০টি বছর ধরে বিভিন্ন স্থানে দৌড় ঝাপ দিয়ে যাচ্ছেন।
মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়ার সকল প্রকার স্বীকৃতি আছে,কাগজপত্রও আছে অথচ রহস্যজনক কারণে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় তার পিতার নাম অর্ন্তভুক্তি হয়নি।তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে তার বাবার নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অর্ন্তভূক্তি করার জন্য বিশেষ ভাবে অনুরোধ জানান এবং সেই সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেন।

     More News Of This Category

ফেসবুক