অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কেনা নিয়ে ভোগান্তির শেষ নেই , যা বললো সহজ ডট কম

Spread the love

ইবাংলা নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ‘ইউ আর ভেরি ভেল্যুয়েবল টু আস’ কিংবা ‘প্লিজ স্টে টিউনড’—শনিবার (২০ এপ্রিল) সকাল থেকে যারা ঈদযাত্রার আগাম ট্রেনের টিকিটের জন্য অনলাইনের শরণাপন্ন হয়েছিলেন তাদের কাছে পরিচিত এই দুটি লাইন।
অনেক সময় ধরে চেষ্টার পরও ওয়েবসাইটে ঢুকতে পারেনি অনেকে।আবার কেউ ওয়েবসাইটে লগইন-ই করতে পারেননি। টিকিট না পেয়ে একদিকে যেমন ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে, অন্যদিকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে না পারার শঙ্কা যেন বিষাদের সৃষ্টি করেছে টিকিটপ্রত্যাশীদের মনে।
সকাল থেকে অনলাইনে কাঙ্ক্ষিত টিকিট না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ভুক্তভোগীরা। তবে কেউ কেউ অনলাইন থেকে পেয়েছেন বহুকাঙ্খিত টিকিট।
ট্রেনের অনলাইন টিকিট বিক্রির দায়িত্বে থাকা সহজ ডট কম বলছে, টিকিট কাটতে কিংবা ওয়েবসাইটে ঢুকতে কোনও ধরনের সমস্যা হচ্ছে না। সকাল থেকে অনলাইন এবং অফলাইন দুই পদ্ধতিতেই টিকিট বিক্রি চলমান রয়েছে। যারা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও টিকিট পাচ্ছেন না, তারা কি কারণে সমস্যায় পড়ছেন তা খতিয়ে দেখা হবে। এ বিষয়ে পরে জানানো সম্ভব হবে।
অনলাইনে শনিবার সকাল আটটা থেকে শুরু হয়েছে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি। কাঙ্ক্ষিত টিকিট না পেয়ে অনেকেই ক্ষোভ জানিয়েছেন। এটিকে অনলাইনে টিকিট বিক্রির দায়িত্ব নেওয়া সহজের ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন টিকিটপ্রত্যাশীরা।
সকাল আটটার আগেই অনলাইনে টিকিট কেনার জন্য নির্ধারিত ওয়েবসাইটে ঢুকেন শাহীন। দীর্ঘ অপেক্ষার পরও টিকিট পাননি তিনি। বিরক্তি প্রকাশ করে তিনি বলেন, অনলাইনে টিকিট কাটতে গেলেই ‘ইউ আর ভেরি ভ্যালুয়েবল টু আস’ মেসেজ দেখায়, কিন্তু বাস্তবে আমাদের কোন ভ্যালু নেই।


সকাল আটটা থেকে দীর্ঘ এক ঘণ্টা চেষ্টার পরও সহজ-এর ওয়েবসাইটে ঢুকে লগইন করতে পারেননি মুস্তাফিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, সব দায়ভার তো আমাদের জনগণেরই।
অপর ভুক্তভোগী ফয়সাল আহমেদ বলেন, অগ্রিম টিকিট কিনতে গিয়ে পদে পদে পড়তে হচ্ছে যন্ত্রনায়।
ক্ষোভ প্রকাশ করে দৈনিক বাংলাদেশ সমাচারের খুলনা বিভাগীয় বিশেষ প্রতিনিধি শেখ মাহাবুব আলম বলেন, আমি হলাম ‘ভ্যালুয়েবল কাস্টমার’। ১ ঘণ্টা আমাকে ‘কোয়েরি’তে রেখে দিল তারা, তারপর ঢুকে দেখলাম ৮ টা ২০ মিনিটে সব টিকিট শেষ। কেমন ভ্যালু দিল আমাকে সহজ???
সুমন বলেন, ওয়েবসাইটে ঢুকতে গিয়েও লাইনে থাকতে হয় ব্যাপারটা আমার কাছে একদমই নতুন। এ আমি কি দেখলাম সহজে?
টিকিটপ্রত্যাশী আবির বলেন, একদিকে ওয়েবসাইটে কেউ ঢুকতে পারছে না আর ওইদিকে দেখা যাচ্ছে—টিকিট সবশেষ। তাহলে টিকিটটা কাটলো কে?—এমন প্রশ্ন রাখেন তিনি।
অনলাইনে প্রায় এক ঘণ্টার বেশি চেষ্টা করেও টিকিট না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করে সায়েম বলেন, এটার রহস্য এখনও বোধগম্য নয়। এক ঘণ্টা হয়ে গেল অথচ ‘ভ্যালু’ শেষ হইল না।
ওয়েবসাইটে ঢুকেও দীর্ঘ অপেক্ষার পর ইমরান হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘নিজেকে অনেক ভ্যালুয়েবল লাগতেছে’।
সকাল আটটা থেকে ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টার পর সহজের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে টিকিট পেয়ে উচ্ছ্বাসিত নাইমুল ইসলাম। তিনি বলেন, মনে-মনে বলছিলাম, যাক বাবা, বিসিএস পরীক্ষাটা শেষমেশ শেষ হইল। পেমেন্টের পর দেখলাম ভালোই টিকিট আছে। তবে তিন-চার মিনিটের মধ্যে সব টিকিট শূন্য হয়ে গেছে।
অনলাইনে টিকিট পেয়ে শামসুজ্জামান রায়হান বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, অনেক কষ্টের পর টিকিট পেলাম। পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে যাব—ভাবতেই অনেক খুশি লাগছে, কারণ আমাদের টিকিট কনফার্ম। বাকিটা আল্লাহ ভরসা।
অনলাইনে টিকিট কাটার ভোগান্তির বিষয়ে জানতে চাইলে সহজ ডট কমের পাবলিক রিলেশন্স ম্যানেজার ইবাংলা কে বলেন, অনলাইন কিংবা অফলাইন (নির্ধারিত রেলস্টেশনের কাউন্টারগুলোতে) টিকিট বিক্রিতে কোন ধরনের তথ্যপ্রযুক্তিগত বা যান্ত্রিক সমস্যা হচ্ছে না। সকাল থেকেই টিকিট কাটা যাচ্ছে। যারা টিকিট কাটতে পারছেন না—তারা তাদের মোবাইল ফোন কিংবা ওয়েবসাইটে ঢোকার প্রক্রিয়া সম্পর্কে সঠিকভাবে এখনও অবগত হতে পারেনি। সে কারণেই তাদের সমস্যা হচ্ছে। তবে টিকিটপ্রত্যাশীরা কী ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন এবং আমাদের পক্ষ থেকে কী করা প্রয়োজন এ বিষয়টি আমরা দেখছি। কোনও ভোগান্তি ছাড়াই যেন জনগণ অনলাইনে কিংবা অফলাইনে টিকিট কাটতে পারে সে বিষয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

     More News Of This Category

ফেসবুক